অম্ল ও ক্ষারের প্রশমন বিক্রিয়া | সংজ্ঞা, সমীকরণ ও উদাহরণ
রসায়নে অম্ল (Acid) ও ক্ষার (Base) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি শ্রেণির পদার্থ। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক পরিচিত পদার্থের মধ্যে অম্ল বা ক্ষারীয় ধর্ম রয়েছে। যেমন—লেবুর রসে অম্লীয় পদার্থ থাকে, আবার সাবান ও কিছু পরিষ্কারক পদার্থ ক্ষারীয় প্রকৃতির।
একটি অম্ল ও একটি ক্ষার পরস্পরের সঙ্গে বিক্রিয়া করলে তাদের নিজস্ব ধর্ম অনেকাংশে প্রশমিত হয় এবং সাধারণত লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়। এই ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়াকে বলা হয় প্রশমন বিক্রিয়া (Neutralization Reaction)।
এই অধ্যায়টি ভালোভাবে বুঝতে হলে শুধু সংজ্ঞা মুখস্থ করলেই হবে না; বরং অম্ল ও ক্ষার কীভাবে আয়নে বিভক্ত হয় এবং সেই আয়নগুলো কীভাবে নতুন পদার্থ তৈরি করে—তা বুঝতে হবে।
প্রশমন বিক্রিয়া কী?
যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় একটি অম্ল ও একটি ক্ষার পরস্পরের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সাধারণত লবণ ও পানি উৎপন্ন করে এবং অম্ল ও ক্ষারের ধর্ম প্রশমিত হয়, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে।
সাধারণ রূপ
অম্ল + ক্ষার → লবণ + পানি
উদাহরণ:
HCl + NaOH → NaCl + H₂O
এখানে—
HCl = হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড → অম্ল
NaOH = সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড → ক্ষার
NaCl = সোডিয়াম ক্লোরাইড → লবণ
H₂O = পানি
প্রশমন বিক্রিয়ার মূল রহস্য: H⁺ ও OH⁻
প্রশমন বিক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো H⁺ ও OH⁻ আয়নের বিক্রিয়া।
জলীয় দ্রবণে অম্ল থেকে H⁺ এবং ক্ষার থেকে OH⁻ পাওয়া যায়।
যেমন—
HCl → H⁺ + Cl⁻
এবং—
NaOH → Na⁺ + OH⁻
এখন H⁺ ও OH⁻ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পানি তৈরি করে।
H⁺ + OH⁻ → H₂O
এটাই হলো প্রশমন বিক্রিয়ার মূল ধাপ।
উদাহরণ–১: HCl ও NaOH-এর প্রশমন বিক্রিয়া
রাসায়নিক সমীকরণ
HCl + NaOH → NaCl + H₂O
এটি প্রশমন বিক্রিয়ার সবচেয়ে সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
ধাপ–১: অম্ল শনাক্ত করা
HCl হলো হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড।
এটি একটি অম্ল এবং জলীয় দ্রবণে H⁺ আয়ন প্রদান করে।
HCl → H⁺ + Cl⁻
অর্থাৎ HCl থেকে দুটি আয়ন পাওয়া যায়—
H⁺
Cl⁻
ধাপ–২: ক্ষার শনাক্ত করা
NaOH হলো সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড।
এটি একটি ক্ষার এবং জলীয় দ্রবণে OH⁻ আয়ন প্রদান করে।
NaOH → Na⁺ + OH⁻
অর্থাৎ NaOH থেকে পাওয়া যায়—
Na⁺
OH⁻
ধাপ–৩: পানি তৈরি
এখন HCl থেকে আসা H⁺ এবং NaOH থেকে আসা OH⁻ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়।
H⁺ + OH⁻ → H₂O
অর্থাৎ পানি তৈরি হলো।
এটাই এই বিক্রিয়ার প্রধান প্রশমন ধাপ।
ধাপ–৪: লবণ তৈরি
এখন দ্রবণে অবশিষ্ট থাকে—
Na⁺
Cl⁻
এই দুই আয়ন পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে NaCl তৈরি করে।
Na⁺ + Cl⁻ → NaCl
NaCl হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড, যা সাধারণ খাবার লবণের প্রধান উপাদান।
ধাপ–৫: পূর্ণ সমীকরণ
তাই পুরো বিক্রিয়াটি—
HCl + NaOH → NaCl + H₂O
সহজভাবে
HCl-এর H⁺ + NaOH-এর OH⁻ → পানি
আর—
Na⁺ + Cl⁻ → লবণ
সুতরাং—
অম্ল + ক্ষার → লবণ + পানি
উদাহরণ–২: H₂SO₄ ও NaOH-এর প্রশমন বিক্রিয়া
রাসায়নিক সমীকরণ
H₂SO₄ + 2NaOH → Na₂SO₄ + 2H₂O
এই উদাহরণটি প্রথমটির তুলনায় একটু জটিল। কারণ এখানে একটি H₂SO₄-এর সম্পূর্ণ প্রশমনের জন্য দুটি NaOH প্রয়োজন।
ধাপ–১: অম্ল শনাক্ত করা
H₂SO₄ হলো সালফিউরিক অ্যাসিড।
এতে দুটি অম্লীয় হাইড্রোজেন রয়েছে। সম্পূর্ণ প্রশমনের ক্ষেত্রে দুটি H⁺-এর জন্য দুটি OH⁻ প্রয়োজন।
ধাপ–২: ক্ষার শনাক্ত করা
NaOH হলো সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড।
প্রতিটি NaOH একটি OH⁻ প্রদান করে।
তাই দুটি NaOH থেকে—
2NaOH → 2Na⁺ + 2OH⁻
পাওয়া যায়।
ধাপ–৩: H⁺ ও OH⁻ এর বিক্রিয়া
H₂SO₄-এর অম্লীয় H⁺ এবং NaOH-এর OH⁻ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়।
2H⁺ + 2OH⁻ → 2H₂O
অর্থাৎ এখানে দুই অণু পানি উৎপন্ন হয়।
ধাপ–৪: লবণ তৈরি
এখন অবশিষ্ট Na⁺ এবং SO₄²⁻ আয়ন একত্রিত হয়ে সোডিয়াম সালফেট তৈরি করে।
2Na⁺ + SO₄²⁻ → Na₂SO₄
ধাপ–৫: পূর্ণ সমীকরণ
H₂SO₄ + 2NaOH → Na₂SO₄ + 2H₂O
কেন 2NaOH দরকার?
H₂SO₄-এর সম্পূর্ণ প্রশমনের জন্য দুটি H⁺-এর বিপরীতে দুটি OH⁻ দরকার।
একটি NaOH দেয় একটি OH⁻।
তাই দরকার—
২টি NaOH → ২টি OH⁻
এ কারণে সমীকরণে 2NaOH লেখা হয়েছে।
সহজভাবে
একটি H₂SO₄-এর দুইটি অম্লীয় H⁺-কে প্রশমিত করতে দুইটি NaOH-এর দুইটি OH⁻ প্রয়োজন।
উদাহরণ–৩: HNO₃ ও KOH-এর প্রশমন বিক্রিয়া
রাসায়নিক সমীকরণ
HNO₃ + KOH → KNO₃ + H₂O
এটি একটি সরল ১:১ প্রশমন বিক্রিয়া।
ধাপ–১: অম্ল
HNO₃ হলো নাইট্রিক অ্যাসিড।
জলীয় দ্রবণে—
HNO₃ → H⁺ + NO₃⁻
এখানে পাওয়া যায়—
H⁺
NO₃⁻
ধাপ–২: ক্ষার
KOH হলো পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড।
এটি আয়নে বিভক্ত হয়ে—
KOH → K⁺ + OH⁻
তৈরি করে।
ধাপ–৩: পানি তৈরি
H⁺ এবং OH⁻ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়।
H⁺ + OH⁻ → H₂O
ফলে পানি তৈরি হয়।
ধাপ–৪: লবণ তৈরি
অবশিষ্ট K⁺ এবং NO₃⁻ একত্রিত হয়ে—
K⁺ + NO₃⁻ → KNO₃
অর্থাৎ পটাশিয়াম নাইট্রেট তৈরি হয়।
ধাপ–৫: পূর্ণ সমীকরণ
HNO₃ + KOH → KNO₃ + H₂O
সহজভাবে
নাইট্রিক অ্যাসিডের H⁺ এবং পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইডের OH⁻ মিলে পানি তৈরি করে। অন্যদিকে K⁺ ও NO₃⁻ মিলে KNO₃ লবণ তৈরি করে।
উদাহরণ–৪: HCl ও Ca(OH)₂-এর প্রশমন বিক্রিয়া
রাসায়নিক সমীকরণ
2HCl + Ca(OH)₂ → CaCl₂ + 2H₂O
এই বিক্রিয়ায়ও সমীকরণে ২ ব্যবহার করার একটি বিশেষ কারণ রয়েছে।
ধাপ–১: অম্ল শনাক্ত করা
HCl হলো হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড।
প্রতিটি HCl থেকে একটি H⁺ পাওয়া যায়।
তাই দুটি HCl থেকে—
2HCl → 2H⁺ + 2Cl⁻
পাওয়া যায়।
ধাপ–২: ক্ষার শনাক্ত করা
Ca(OH)₂ হলো ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড।
এতে দুটি OH রয়েছে।
তাই জলীয় দ্রবণে—
Ca(OH)₂ → Ca²⁺ + 2OH⁻
ধাপ–৩: পানি তৈরি
এখন দুইটি H⁺ এবং দুইটি OH⁻ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়।
2H⁺ + 2OH⁻ → 2H₂O
ফলে দুই অণু পানি তৈরি হয়।
ধাপ–৪: লবণ তৈরি
এখন অবশিষ্ট—
Ca²⁺ এবং Cl⁻
পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে CaCl₂ তৈরি করে।
Ca²⁺ + 2Cl⁻ → CaCl₂
ধাপ–৫: পূর্ণ সমীকরণ
2HCl + Ca(OH)₂ → CaCl₂ + 2H₂O
কেন 2HCl দরকার?
একটি Ca(OH)₂-তে দুটি OH⁻ রয়েছে।
প্রতিটি HCl একটি H⁺ দেয়।
তাই দুটি OH⁻-কে সম্পূর্ণ প্রশমিত করতে দুটি H⁺ দরকার।
সেজন্য দরকার—
2HCl
সহজভাবে
২টি HCl-এর ২টি H⁺ + Ca(OH)₂-এর ২টি OH⁻ → ২H₂O
আর অবশিষ্ট Ca²⁺ ও Cl⁻ মিলে—
CaCl₂
তৈরি করে।
প্রশমন বিক্রিয়ায় সমীকরণ সমতাকরণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ভর সংরক্ষণ সূত্র মেনে চলতে হয়। অর্থাৎ বিক্রিয়ার আগে যে সংখ্যক পরমাণু থাকে, বিক্রিয়ার পরেও সেই সংখ্যক পরমাণু থাকতে হবে।
উদাহরণ:
HCl + NaOH → NaCl + H₂O
বাম পাশে—
H = ২
Cl = ১
Na = ১
O = ১
ডান পাশেও—
H = ২
Cl = ১
Na = ১
O = ১
তাই এটি সুষম।
আবার—
H₂SO₄ + 2NaOH → Na₂SO₄ + 2H₂O
এখানে উভয় পাশে H, S, O এবং Na-এর পরমাণু সংখ্যা সমান।
তাই সমীকরণটি সুষম।
প্রশমন বিক্রিয়ার সাধারণ ধাপ
যেকোনো সাধারণ অম্ল-ক্ষার প্রশমন বিক্রিয়া বিশ্লেষণ করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা যায়।
ধাপ–১: অম্ল শনাক্ত করুন
সমীকরণে কোন পদার্থটি অম্ল তা নির্ণয় করুন।
ধাপ–২: ক্ষার শনাক্ত করুন
কোন পদার্থটি ক্ষার তা নির্ণয় করুন।
ধাপ–৩: আয়ন শনাক্ত করুন
অম্ল থেকে H⁺ এবং ক্ষার থেকে OH⁻ কীভাবে আসছে তা দেখুন।
ধাপ–৪: পানি তৈরি করুন
H⁺ + OH⁻ → H₂O
এটি হলো মূল প্রশমন ধাপ।
ধাপ–৫: লবণ নির্ণয় করুন
অবশিষ্ট ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়ন মিলিয়ে লবণ নির্ণয় করুন।
ধাপ–৬: সমীকরণ সমতাকরণ করুন
শেষে উভয় পাশে প্রতিটি মৌলের পরমাণু সংখ্যা সমান আছে কি না যাচাই করুন।
দৈনন্দিন জীবনে প্রশমন বিক্রিয়ার ব্যবহার
পাকস্থলীর অতিরিক্ত অম্লতা
পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড থাকে। অতিরিক্ত অম্লতার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহৃত কিছু অ্যান্টাসিড পাকস্থলীর অতিরিক্ত অম্লকে প্রশমিত করতে সাহায্য করতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের বিক্রিয়া—
2HCl + Mg(OH)₂ → MgCl₂ + 2H₂O
এখানে—
ধাপ–১
HCl হলো অম্ল।
ধাপ–২
Mg(OH)₂ হলো ক্ষারীয় পদার্থ।
ধাপ–৩
Mg(OH)₂ থেকে দুটি OH⁻ পাওয়া যায়।
ধাপ–৪
দুটি H⁺ ও দুটি OH⁻ মিলে দুই অণু পানি তৈরি করে।
2H⁺ + 2OH⁻ → 2H₂O
ধাপ–৫
Mg²⁺ ও Cl⁻ মিলে MgCl₂ তৈরি করে।
Mg²⁺ + 2Cl⁻ → MgCl₂
তাই—
2HCl + Mg(OH)₂ → MgCl₂ + 2H₂O
কৃষিক্ষেত্রে অম্লীয় মাটি নিয়ন্ত্রণ
অতিরিক্ত অম্লীয় মাটির অম্লতা কমানোর জন্য কৃষিতে উপযুক্ত চুনজাতীয় পদার্থ ব্যবহার করা হয়।
এখানে কার্বোনেটজাত পদার্থের সঙ্গে অম্লের বিক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ:
2HCl + CaCO₃ → CaCl₂ + H₂O + CO₂
এটি সরাসরি অম্ল + হাইড্রোক্সাইড ক্ষার → লবণ + পানি ধরনের প্রশমন নয়; বরং অম্ল ও কার্বোনেটের বিক্রিয়া। তবে অম্লতা কমানোর ক্ষেত্রে এর ব্যবহার রয়েছে।
ধাপে ধাপে
ধাপ–১: HCl অম্ল হিসেবে কাজ করে।
ধাপ–২: CaCO₃ অম্লের সঙ্গে বিক্রিয়া করে।
ধাপ–৩: Ca²⁺ ও Cl⁻ মিলে CaCl₂ তৈরি করে।
ধাপ–৪: বিক্রিয়ায় পানি তৈরি হয়।
ধাপ–৫: CO₂ গ্যাসও উৎপন্ন হয়।
ফলে—
2HCl + CaCO₃ → CaCl₂ + H₂O + CO₂
প্রশমন বিক্রিয়া ও pH
কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝাতে pH স্কেল ব্যবহার করা হয়।
সাধারণভাবে—
pH < 7 → অম্লীয়
pH = 7 → নিরপেক্ষ
pH > 7 → ক্ষারীয়
একটি শক্তিশালী অম্ল ও শক্তিশালী ক্ষার উপযুক্ত পরিমাণে সম্পূর্ণ প্রশমিত হলে দ্রবণের pH সাধারণত ৭-এর কাছাকাছি হতে পারে।
তবে সব অম্ল-ক্ষার বিক্রিয়ায় pH ঠিক ৭ হবে এমন নয়। অম্ল ও ক্ষারের শক্তি এবং পরিমাণের ওপর চূড়ান্ত pH নির্ভর করে।
প্রশমন বিক্রিয়া কীভাবে সহজে চেনা যায়?
কোনো সমীকরণ দেখার পর নিজেকে তিনটি প্রশ্ন করুন—
প্রশ্ন–১
এখানে কি একটি অম্ল আছে?
প্রশ্ন–২
এখানে কি একটি ক্ষার আছে?
প্রশ্ন–৩
বিক্রিয়ার ফলে কি লবণ ও পানি তৈরি হচ্ছে?
যদি উত্তর হয় হ্যাঁ, তাহলে সেটি সাধারণত প্রশমন বিক্রিয়া।
যেমন—
HCl + NaOH → NaCl + H₂O
এখানে—
HCl = অম্ল
NaOH = ক্ষার
NaCl = লবণ
H₂O = পানি
তাই এটি একটি প্রশমন বিক্রিয়া।
পরীক্ষায় লেখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ
১. HCl ও NaOH
HCl + NaOH → NaCl + H₂O
২. H₂SO₄ ও NaOH
H₂SO₄ + 2NaOH → Na₂SO₄ + 2H₂O
৩. HNO₃ ও KOH
HNO₃ + KOH → KNO₃ + H₂O
৪. HCl ও Ca(OH)₂
2HCl + Ca(OH)₂ → CaCl₂ + 2H₂O
৫. HCl ও Mg(OH)₂
2HCl + Mg(OH)₂ → MgCl₂ + 2H₂O
গুরুত্বপূর্ণ আয়নিক সমীকরণ
প্রশমন বিক্রিয়ার মূল আয়নিক সমীকরণ হলো—
H⁺ + OH⁻ → H₂O
এটি মনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ বিভিন্ন অম্ল ও ক্ষার ব্যবহার করা হলেও সাধারণ শক্তিশালী অম্ল-ক্ষারের প্রশমন বিক্রিয়ার মূল বিষয় একই—H⁺ এবং OH⁻ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পানি তৈরি করে।
এক নজরে পুরো বিষয়টি
অম্ল → H⁺ প্রদান করে
↓
ক্ষার → OH⁻ প্রদান করে
↓
H⁺ + OH⁻ → H₂O
↓
অবশিষ্ট আয়ন → লবণ
↓
অম্ল + ক্ষার → লবণ + পানি
পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: প্রশমন বিক্রিয়া কাকে বলে?
উত্তর: যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অম্ল ও ক্ষার পরস্পরের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সাধারণত লবণ ও পানি উৎপন্ন করে এবং অম্ল ও ক্ষারের ধর্ম প্রশমিত হয়, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে।
প্রশ্ন: প্রশমন বিক্রিয়ার মূল আয়নিক সমীকরণ লেখ।
উত্তর:
H⁺ + OH⁻ → H₂O
প্রশ্ন: HCl ও NaOH-এর বিক্রিয়াটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর:
HCl একটি অম্ল এবং NaOH একটি ক্ষার।
HCl → H⁺ + Cl⁻
NaOH → Na⁺ + OH⁻
এরপর—
H⁺ + OH⁻ → H₂O
এবং—
Na⁺ + Cl⁻ → NaCl
অতএব—
HCl + NaOH → NaCl + H₂O
এটি একটি প্রশমন বিক্রিয়া।
উপসংহার
অম্ল ও ক্ষারের প্রশমন বিক্রিয়া রসায়নের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিষয়। এই বিক্রিয়াকে শুধু “অম্ল + ক্ষার → লবণ + পানি” হিসেবে মুখস্থ না করে এর পেছনের আয়নিক প্রক্রিয়াটি বোঝা উচিত।
একটি সাধারণ প্রশমন বিক্রিয়ায় প্রথমে অম্ল থেকে H⁺ এবং ক্ষার থেকে OH⁻ পাওয়া যায়। এরপর H⁺ ও OH⁻ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে H₂O তৈরি করে। একই সময়ে অবশিষ্ট ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়ন পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে লবণ তৈরি করে।
সুতরাং পুরো বিষয়টির মূল কথা হলো—
⭐ অম্ল + ক্ষার → লবণ + পানি
⭐ H⁺ + OH⁻ → H₂O
আর কোনো সমীকরণ বিশ্লেষণ করার সময় মনে রাখুন:
অম্ল শনাক্ত করুন → ক্ষার শনাক্ত করুন → H⁺ ও OH⁻ খুঁজুন → পানি তৈরি করুন → অবশিষ্ট আয়ন দিয়ে লবণ নির্ণয় করুন → সমীকরণ সমতাকরণ করুন।
এই ধাপগুলো অনুসরণ করলে নবম–দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশমন বিক্রিয়ার অধিকাংশ সমীকরণ সহজে বোঝা ও ব্যাখ্যা করা সম্ভব।

