প্রতিবেদন: কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ | JSC, SSC, HSC

কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ


আলোচ্য বিষয়:

👉🏻তোমার কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করে একটি প্রতিবেদন রচনা করো ।



তাংঃ ১৫/০৬/২২
বরাবর
অধ্যক্ষ
“ ——— ” কলেজ , _____।

বিষয় : কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান প্রসঙ্গে ।

জনাব ,

সম্প্রতি প্রকাশি _______ সালের জেএসসি/এসএসসি/এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল অত্র স্কুল/কলেজের জন্যে হতাশা বয়ে এনেছে । ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় যাতে না হয় সেজন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করার লক্ষ্যে একাডেমিক পরিষদের সভায় আমাকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে । যথাযথ তদন্তসাপেক্ষে প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনটি আপনার সদয় বিবেচনার জন্য পেশ করা হলো ।

নিবেদক
জীবন কান্তি মণ্ডল
প্রতিবেদন প্রস্তুতকার

সার্বিক ফলাফল চিত্র : _____ সালে সারা বাংলাদেশে জেএসসি/এসএসসি/এইচএসসি পরীক্ষার পাসের হার শতকরা ___ ভাগ । ঢাকা/রাজশাহী/সিলেট/চট্টগ্রাম/দিনাজপুর/বরিশাল/কুমিল্লা/যশোর বোর্ডে এ হার ____ ভাগ । ছেলেদের ক্ষেত্রে ঢাকা/রাজশাহী/সিলেট/চট্টগ্রাম/দিনাজপুর/বরিশাল/কুমিল্লা/যশোর বোর্ডে পাসের হার _____ ভাগ এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে এ হার _____ । সারাদেশে মোট ______ জন জিপিএ -৫ পেয়েছে । 

অত্র স্কুল/কলেজের ফলাফল চিত্র : _____ সালে অত্র কলেজ হতে মোট ____ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল । এদের মধ্যে _____ জন ছাত্র এবং ___ জন ছাত্রী । সর্বমোট ______ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে । পাসের হার _____ শতাংশ । এদের মধ্যে কোনো জিপিএ -৫ নেই । ঢাকা/রাজশাহী/সিলেট/চট্টগ্রাম/দিনাজপুর/বরিশাল/কুমিল্লা/যশোর বোর্ডের পাসের হারের তুলনায় এ ফলাফল খুবই হতাশাজনক । এতে কলেজের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে ।

ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ :

১. পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় কলেজের শিক্ষক স্বল্পতাকে । কলেজের স্থায়ী পদগুলোর বিপরীতে অর্ধেক শিক্ষকও কর্মরত নেই । বাংলা ইংরেজি বিভাগে মাত্র একজন করে শিক্ষক রয়েছেন । গণিত ও দর্শন বিভাগে দীর্ঘ ৬ মাস যাবৎ কোনো শিক্ষকই ছিল না । ফলে শিক্ষার্থীদের পঠন - পাঠন দারুণভাবে ব্যাহত হয়েছে ।

২. ছাত্রদের ক্লাসে উপস্থিতি খুবই কম । শিক্ষকদেরও দায়িত্বশীলতার ঘাটতি লক্ষণীয় । বেশ কয়েকজন শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস না করিয়ে প্রাইভেট টিউশনি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে ।

৩ . ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায় অকৃতকার্যদের শতকরা ৯০ ভাগই ইংরেজি বিষয়ে পাস করতে পারে নি । ছাত্রদের ইংরেজি বিষয়ের এ দুর্বলতার ব্যাপারে আগেভাগে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয় নি ।

৪ . কলেজে প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রসংগঠনের মধ্যে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ সংঘটিত হয়েছে । যার ফলে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে ।

৫ . পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অনিয়মিত । অকৃতকার্য তারাই হয়েছে বেশি । অনিয়মিত ছাত্রছাত্রীদের প্রস্তুতির বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের তদারকি নেই বলে তাদের ফলাফল আরও বেশি খারাপ হয়েছে ।

৬ . নির্বাচনি পরীক্ষায় উত্তরপত্র মূল্যায়নে শৈথিল্য লক্ষণীয় । নির্বাচনি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হবার পরও অনেকে বিশেষ বিবেচনায় পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে । তাদের ক্ষেত্রেই অকৃতকার্যের হার বৃদ্ধি হয়েছে ।

৭. শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন যত্নশীলতার অভাব লক্ষণীয় ।

সুপারিশসমূহ :

১. অনতিবিলম্বে কলেজে শিক্ষক স্বল্পতা সমস্যার সমাধান করা উচিত । শূন্যপদগুলো পূরণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে ।

২. ছাত্রছাত্রীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে । শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে ।

৩. নির্বাচনি পরীক্ষায় যারা অকৃতকার্য হবে তারা যাতে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে ।

৪. কলেজে ছাত্ররাজনীতির নামে শিক্ষার পরিবেশ যাতে কেউ নষ্ট করতে না পারে সেদিকে সচেতন দৃষ্টি দিতে হবে ।

৫. শিক্ষার্থীদের ক্রমোন্নতির বিষয়টি নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে এবং অভিভাবকদের চিঠি দিয়ে শিক্ষার্থীদের সার্বিক অগ্রগতি বিষয়ে অবহিত করতে হবে ।

স্বাক্ষর
জীবন কান্তি মন্ডল
নোট: প্রিয় পাঠক, উক্ত প্রতিবেদনের জন্য আপনি নিজ বোর্ডের বিগত বছরের ফলাফল সম্পর্কে একটু ধারনা নিবেন। ধন্যবাদ। 


আরো পড়ুন: