0
ভিউ
পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ দেশ। এ দেশের নদী, খাল-বিল, সবুজ মাঠ, শস্যভরা জমি, বনভূমি, পাহাড়, সমুদ্র, ফুল-পাখি এবং ছয় ঋতুর বিচিত্র রূপ বাংলার প্রকৃতিকে অনন্য করে তুলেছে। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্যের জন্যই বাংলাদেশকে রূপসী বাংলা বলা হয়। বাংলার প্রকৃতি কখনো শান্ত, কখনো স্নিগ্ধ, আবার কখনো প্রাণচঞ্চল রূপ ধারণ করে।বর্ষাকালে আকাশে কালো মেঘ জমে এবং বৃষ্টির পানিতে নদী-নালা, খাল-বিল ও পুকুর ভরে ওঠে। চারদিকে সবুজের সমারোহ দেখা যায়। নৌকা চলাচল ও নদীর ঢেউ বাংলার বর্ষার সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। শরৎকালে নীল আকাশ, সাদা মেঘ ও কাশফুলের দোলা প্রকৃতিতে এক অপূর্ব আবহ তৈরি করে। হেমন্তে সোনালি ধানের ক্ষেত বাংলার গ্রামকে অপরূপ সাজে সাজায়। শীতকালে কুয়াশায় ঢাকা ভোর, শিশিরভেজা ঘাস ও খেজুরের রস প্রকৃতিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। বসন্তে শিমুল, পলাশ ও নানা ফুলের রঙে বাংলার প্রকৃতি নতুন প্রাণ ফিরে পায়।বাংলার প্রকৃতি ও মানুষের জীবন একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। কৃষকের জীবন, নদীতে জেলেদের কর্মব্যস্ততা, গ্রামীণ উৎসব, লোকসংগীত ও লোকসংস্কৃতির সঙ্গে বাংলার প্রকৃতির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বাংলা সাহিত্যের অনেক কবি ও সাহিত্যিক তাঁদের লেখায় এ দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে কবি জীবনানন্দ দাশ তাঁর কবিতায় বাংলার মাটি, নদী, মাঠ, পাখি ও গ্রামীণ প্রকৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।রূপসী বাংলার সৌন্দর্য আমাদের গর্ব ও ভালোবাসার বিষয়। কিন্তু পরিবেশ দূষণ, নদী দখল, বন উজাড় ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তাই বাংলার নদী, বন, জলাশয় ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রকৃতিকে ভালোবাসা ও সংরক্ষণের মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রূপসী বাংলার সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রাখতে পারি।
হোম পেজে ফিরে যান
মন্তব্য (0)