প্লাস্টিক দূষণ
বর্তমান শতাব্দির একটি জতিলতম সমস্যা হল পরিবেশ দূষণ। অনেক প্রকার পরিবেশ দূষণের মধ্যে অন্যতম হল প্লাস্টিক দূষণ যা সারা বিশ্বের পরিবেশবিদদের চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। প্লাস্টিক এখন আধুনিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে।
একসময় জিনিসপত্র বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাপড়ের থলি, পাটের তৈরি ব্যাগ, কাগজের প্যাকেট ব্যবহার করা হতো। এগুলি ছিল পরিবেশ বান্ধব- ব্যবহার করার পর ফেলে দিলে সহজেই প্রকৃতিতে মিশে যেতো, পরিবেশের কোনো ক্ষতি করতো না।
বর্তমানে আমরা জিনিসপত্র বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্লাস্টিকের তৈরি ক্যারিব্যাগ ব্যবহার করি যা পরিবেশের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। শুধু ক্যারিব্যাগ নয়, প্লাস্টিকের তৈরি হাজার রকমের জিনিস আমরা ব্যবহার করে থাকি।
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যে টুথ ব্রাশ দিয়ে আমরা মুখ ধুই সেটিও প্লাস্টিকের তৈরি, জলের বোতল প্লাস্টিকের তৈরি, অনেকেই প্লাস্টিকের টিফিন ক্যারিয়ারে স্কুলে খাবার নিয়ে যায়; ঘরের অনেক জিনিসপত্র- কৌটো থেকে শুরু করে শোপিস সবই প্লাস্টিকের তৈরি। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, হোম থিয়েটার, সাউন্ড সিস্টেম এসবের কাভার/কেবিনেট প্লাস্টিকের তৈরি। এমনকি আমরা যেসব কলম দিয়ে লেখি সেগুলিও বেশিরভাগ প্লাস্টিকের তৈরি।
প্লাস্টিকের তৈরি জিনিসের দাম কম এবং টেকসই বেশি হয়। আমরাও তাই নির্বিচারে প্লাস্টিকের জিনিস ব্যবহার করি। আর এইজন্য আজ ঘরে বাইরে চারিদিকে প্লাস্টিকের স্তুপ । প্লাস্টিক পরিবেশের শত্রু।
ব্যবহার করার পর প্লাস্টিকগুলি যেখানে ফেলা হয় সেখানকার মাটি দূষিত হয়ে যায়। বিশেষত যেসব প্লাস্টিক ৫ মাইক্রনের কম পুরু হয় সেগুলি দীর্ঘদিন একইরকম থেকে যায়। এরফলে সেই যাটিতে কোনো গাছ জন্মাতে পারে না। বেশিরভাগ প্লাস্টিকের ব্যাগ মানুষ একবার ব্যবহার করে রাস্তায় ফেলে দেয়। কারণ প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে সেগুলিকে গৃহস্থের আবর্জনা বলে মনে করা হয়। এরপর রাস্তায় পড়ে থাকা প্লাস্টিক যদি গরু, ছাগল বা কুকুরের পেটে যায় তবে সেটি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একসময় মারা যায় ।
আবার, বৃষ্টির জলের মাধ্যমে এই সমস্ত প্লাস্টিক গিয়ে পড়ে নদীতে এবং সমুদ্রে। ফলে সেখানকার পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। সমুদ্রের নীচে যে বৈচিত্রময় জীবজগত রয়েছে, মানুষের ব্যবহৃত প্লাস্টিক সেই জীবজগতেরও ক্ষতিসাধন করছে। প্লাস্টিক দূষণ এখন সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে দুশ্চিন্তার বিষয়।
এখনই যদি কোন ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে ভবিষ্যতে আযাদের অনেক বড় বিপদের মধ্যে পড়তে হবে। প্লাস্টিক দূষণের অনিবার্য পরিণতি থেকে মানব সভ্যতাকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন মানুষের সচেতনতা। যতদিন না পর্যন্ত প্লাস্টিক ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে জন সমাজে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে, ততদিন আইন তৈরি করেও কোনো লাভ হবে না। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে এই কাজ করা যেতে পারে।
মন্তব্য (0)