স্মার্ট নাগরিক গঠনে গ্রন্থাগারের ভুমিকা অনুচ্ছেদ

স্মার্ট নাগরিক গঠনে গ্রন্থাগারের ভুমিকা

স্মার্ট নাগরিক গঠনে গ্রন্থাগারের ভুমিকা অনুচ্ছেদ

লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার বিস্তৃত তথ্য প্রদান করে স্মার্ট নাগরিক তৈরিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গ্রন্থাগার জ্ঞান, শেখার এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বৃদ্ধির কেন্দ্র হিসাবে কাজ করে। গ্রন্থাগার বই, ডিজিটাল মিডিয়া এবং অন্যান্য শিক্ষামূলক উপকরণ সরবরাহ করে যা ব্যক্তিদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার দক্ষতা বিকাশ করতে, তাদের জ্ঞানের ভিত্তি প্রসারিত করতে এবং বর্তমান ঘটনা এবং সমস্যা সম্পর্কে অবগত থাকতে সাহায্য করে।

মানবসভ্যতার উষালগ্ন থেকেই সমাজে গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয়ে আসছে। আজকের মতো সুসজ্জিত গ্রন্থাগারের অস্তিত্ব তখন পাওয়া না গেলেও সভ্যতার একমাত্র ধারক ও বাহক হিসেবে গ্রন্থাগার স্বীকৃত। প্রাচীনকালের যেসব সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া যায়, তার প্রত্যেকটি সভ্যতার মধ্যে গ্রন্থাগারের অস্তিত্ব বিদ্যমান। যদিও সেসব গ্রন্থাগার তত্কালীন রাজপরিবার এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল। তখনকার গ্রন্থাগারগুলো ছিল গণমানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। শুধু তা-ই নয়, গ্রন্থাগার ছিল তখনকার সমাজের আভিজাত্যের প্রতীক। কিন্তু কালের বিবর্তনে মানুষের ধারণা ব্যাপকভাবে পালটে গেছে। এর কারণ তথ্য প্রযুক্তি উন্নয়নের ফলে গ্রন্থাগারের সেবার মানও উন্নতি হয়েছে। অন্যদিকে পাঠকদের চাহিদা আরো উন্নত করতে বর্তমান সরকার স্মার্ট গ্রন্থাগারকে বেছে নিয়েছে। তাই বিশাল অন্তহীন জ্ঞান সমুদ্রের মধ্যে জীবনকে জানার জন্য স্মার্ট গ্রন্থাগার হচ্ছে বর্তমান সময়ে সব মানুষের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।

স্মার্ট গ্রন্থাগার হলো এমন একটি গ্রন্থাগার, সেবা ও ধারণা। যার মধ্যে থাকবে একটি ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কিং ও ইন্টারনেট অব থিংস (এলওটি) পদ্ধতি। এই এলওটি শব্দটি মূলত ডিভাইসগুলোর সম্মিলিত নেওয়ার্ক, যা ক্লাউড ও যোগাযোগ সুবিধা প্রদানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। এর ফলে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির ওপর ভিত্তি করে কিছু ডেটা সিগন্যাল সেন্সিং ও এর কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করে। অন্যদিকে স্মার্ট গ্রন্থাগারের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মধ্যে মেশিন লার্নিং, বিকন অথবা আইবিকন, মোবাইল কিয়স্ক, মোবাইল অ্যাপস এবং আরএফআইডি ইত্যাদি প্রযুক্তি বিদ্যমান। ফলে স্মার্ট গ্রন্থাগারে বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করে ব্যবহারকারী ও গ্রন্থাগারিকদের মধ্যে আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা সম্ভব। যার মূলে দেশের সব গ্রন্থাগারকে আধুনিক ও ডিজিটালসমৃদ্ধ করে পাঠকসেবাকে আরো উন্নত করাও সম্ভব, যাতে জনগণ বিশেষ করে তরুণ প্রজম্ম বইমুখী তথা গ্রন্থাগারমুখী হয়। এর জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাবিত হয়ে একটি স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে যথাযথ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়। একটি দেশের গ্রন্থাগার কতটা সমৃদ্ধ তা দেখেই সে দেশের উন্নয়ন ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। তাই যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গ্রন্থাগারকে আধুনিকীকরণ করা অপরিহার্য।

কারণ, গ্রন্থাগার শুধু বই ও জ্ঞানের ভান্ডার নয়; এটি হল একটি গতিশীল প্রতিষ্ঠান যা স্মার্ট নাগরিক গড়ে তুলতে এবং আরও সচেতন, নিযুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ভিডিও দেখুন


আরো পড়ুন:
পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট
No Comment
আপনার মন্তব্য জানান
comment url