প্রবন্ধ রচনা দুর্গাপূজা | দুর্গাপূজা রচনা

দুর্গাপূজা

প্রবন্ধ রচনা দুর্গাপূজা | দুর্গাপূজা রচনা

ভূমিকা:

দুর্গাপূজা বাঙ্গালী হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব। এটা একবার ঋতুরাজ বসন্তকালে ও আর একবার শরৎকালে অনুষ্ঠিত হয়। দুর্গাপূজার আনন্দময় দিন কয়টির জন্য বাঙ্গালী হিন্দু মাত্রই সারা বৎসর ধরে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে। কথিত আছে, অতি প্রাচীনকালে মহারাজ সুরথ হৃতরাজ্য লাভের জন্য বসন্তকালে যে দুর্গোৎসব করেন, তার নাম বাসন্তী দুর্গাপূজা। আর রামচন্দ্র রাবণবধের জন্য শরৎকালে দেবীর যে অকালবোধন করেন, তার নাম শারদীয় দুর্গাপূজা। শরৎকাল দেবতাদের নিদ্রার সময়, কিন্তু রামচন্দ্র রাবণবধের জন্য অসময়ে দেবীর পূজা করতে বাধ্য হন। এজন্য শারদীয় দুর্গাপূজাকে অকালবোধন বলে। শারদীয় দুর্গাপূজাই আমাদের দেশে, বিশেষতঃ বাঙ্গালী হিন্দুদের মধ্যে অধিক প্রচলিত।

দুর্গাপূজার কাহিনী:

পুরাকালে দেবতা ও দৈত্য বা অসুরদের মধ্যে যুদ্ধ লেগেই থাকত। মহিষাসুর নামে এক দৈত্যরাজ দেবতাদেরকে পরাজিত করে স্বর্গ হতে বিতাড়িত করেন। তখন সমস্ত দেবতা মিলে বিষ্ণু ও মহাদেবের শরণাপন্ন হন। দেবতাদের যৌথশক্তির সমন্বয়ে তখন এক শক্তিরূপিণী মহাদেবীর সৃষ্টি হয়। এ শক্তিরূপিনী মহাদেবীই হলেন দুর্গা। দুর্গা মহিষাসুরকে ধ্বংস করেন। দুর্গতিনাশ ও শক্তিলাভের উপায় হিসেবে তখন হতে দুর্গাপূজার প্রচলন হয়।

পূজার প্রস্তুতি:

পূজার কয়েকদিন পূর্ব হতেই স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রবাসী হিন্দুরা নিজ নিজ গৃহ অভিমুখে রওনা হন। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর পূজার সময় গৃহে ফেরার যে কি আনন্দ, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আনন্দময়ীর আগমনে তখন চারদিকে যেন মহাআনন্দের ধুম পড়ে যায়। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে হিন্দু নর-নারীরা নতুন সাজে সজ্জিত হয়। পূজার সময় সর্বাপেক্ষা বেশী ধূম পড়ে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে। তখন সবাই যে যার সাধ্যমত ছেলেমেয়েদেরকে নতুন জামা কাপড় কিনে দেয়।

প্রতিমার বর্ণনা:

দেবীর মনোহারিণী মূর্তিদর্শনে ভক্তের মন ভক্তিরসে আপ্লুত হয়। দেবীর দশখানি হাত, পদ্মের ন্যায় সুন্দর দু'টি চোখ, মস্তকে উজ্জ্বল মোহনচূড়া শোভা পায়। দেবীর দক্ষিণে ভাগ্যদেবী লক্ষ্মী এবং বামে বিদ্যাদেবী সরস্বতী, সঙ্গে সিদ্ধিদাতা গণেশ এবং বীরশ্রেষ্ঠ কার্তিক। সিংহ তাঁর বাহন এবং তিনি অসুরের সাথে যুদ্ধে রত। দেবীর দশ হাতে দশটি অস্ত্র রয়েছে। এ দশটি অস্ত্রের সাহায্যে তিনি অসুরকে বধ করতে যেন উদ্যত।

পূজার বর্ণনা:

সাধারণত আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে দেবীর বোধন হয়। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী এ তিন দিন ধরে জাঁকজমকের সাথে পূজা হয় এবং চতুর্থ দিবসে অর্থাৎ দশমী তিথিতে পূজা শেষ হয়। অতঃপর কোন নদী, দীঘি বা সরোবরে দেবীর মূর্তি বিসর্জন দেয়া হয় এবং এ বিসর্জনের মধ্য দিয়েই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। বিসর্জনের পরে আসে কোলাকুলির পালা। এ সময় শত্রু-মিত্র ভেদাভেদ ভুলে, বন্ধু- বান্ধব সকলে মিলে, পরস্পরকে অভিবাদন ও আলিঙ্গন করে। এদিনে কেউ গৃহে এলে তাকে মিষ্টিমুখ করাতে হয়। এটা মানুষে মানুষে বিরোধের অবসান ঘটাবার যে একটি উৎত্কৃষ্ট পন্থা, ভাতে কোন সন্দেহ নেই।

উপসংহার:

দুর্গাপূজার সময় হিন্দুদের ঘরে ঘরে আনন্দের হিল্লোল বয়ে যায়। এ আনন্দ বল্লাহীন উল্লাস নয়। এটা ধর্মীয় অনুপ্রেরণায় পূত ও পবিত্র। তাই দুর্গাপূজার অনুষ্ঠান শরতের জ্যোৎস্না রাত্রির মতই অম্লান, নির্মল ও প্রফুল্ল। শারদীয় দুর্গাপূজা তাই হিন্দুদের নিকট শ্রেষ্ঠ ধর্মীয় উৎসব।'


আরো পড়ুন:


পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট
No Comment
আপনার মন্তব্য জানান
comment url