দুঃখের মতো এমন পরশপাথর আর নাই | ভাবসম্প্রসারণ

দুঃখের মতো এমন পরশপাথর আর নাই

দুঃখের মতো এমন পরশপাথর আর নাই | ভাবসম্প্রসারণ

মূলভাব : সুখ - দুঃখ মিলেই মানবজীবন । দুঃখ মানুষ পরিহার করতে চাইলেও প্রকৃতপক্ষে তা মানবজীবনকে শক্তি ও সাহস দান করে । মুখের আগুনে পুড়েই মানবজীবন হয় খাঁটি সোনার মতো সুন্দর ।

সম্প্রসারিত ভাব : দুঃখ মানুষকে আত্মসচেতন ও সংগ্রামী করে । সংগ্রামী জীবনই মানুষকে ক্রমাগত উন্নতি ও প্রগতির পথে পরিচালিত করে । দুঃখ মানুষের সকল জড়তা ও দৈন্য দূর করে তাকে কর্মতৎপর করে । দুঃখের ভেতর দিয়েই মানুষ জীবনসাধনায় সিদ্ধিলাভ এবং বৃহত্তর জীবনকে উপলব্ধি করে । দুঃখের আগুনে পুড়ে মানুষের জীবন সকল প্রকার ক্লেদ ও গ্লানি থেকে মুক্ত হয় । পরশপাথর নিকৃষ্ট ধাতুকে উৎকৃষ্ট করে । দুঃখও তেমনি মাটির মানুষকে খাঁটি করে ; সত্যাশ্রয়ী , আত্মসচেতন ও কর্মঠ করে । দুঃখের স্পর্শে মানুষের আত্মশক্তি জাগ্রত হয় । মানুষ সত্যিকার মনুষ্যত্ব লাভ করে । দুঃখ মানুষকে মহান করে ও সবকিছু সহ্য করার মতো ক্ষমতা দান করে । কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছেন , " দুঃখই জগতে একমাত্র সকল পদার্থের মূল্য । মাতৃস্নেহের মূল্য দুঃখে , পতিব্রতের মূল্য দুঃখে , বীর্যের মূল্য দুঃখে , পুণ্যের মূল্য দুঃখে । ” জগতের সব মূল্যবান সম্পদ দুঃখের বিনিময়েই অর্জিত হয়েছে । দুঃখ ছাড়া প্রকৃত সুখ লাভ সম্ভব নয় । জগতের সব সাফল্যের সাথে জড়িয়ে আছে সীমাহীন দুঃখের করুণ ইতিহাস । প্রবাদে আছে , ‘ কষ্ট ছাড়া কেষ্ট মেলে না । ' দুঃখ - কষ্ট , ত্যাগ - তিতিক্ষা ও অধ্যবসায় ছাড়া জীবনের প্রার্থিত স্বর্ণশিখরে আরোহণ অসম্ভব । জীবনের যাবতীয় সুখ - সাফল্যের সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছে সীমাহীন দুঃখ - কষ্ট , জ্বালা - যন্ত্রণার নিগূঢ় ইতিহাস । জগৎ সংসারে দুঃখের মতো এত বড় পরশপাথর আর অন্য একটি আছে— এমনটা ভাবাই কষ্টকর । তাই কবির ভাষায় বলতে হয়-

ধন কহে , “ দুঃখ তুমি পরম মঙ্গল ,
তোমারি দহনে আমি হয়েছি উজ্জ্বল ।

মন্তব্য : দুঃখ মানুষের সকল জড়তা ও দৈন্য দূর করে তাকে করে সুন্দর । দুঃখের ভেতর দিয়েই মানুষ জীবন - সাধনায় সিদ্ধি লাভ করে । সুতরাং জাগতিক সকল প্রাপ্তির পূর্বশর্ত দুঃখের পরশ ।

ভিডিও দেখুন



আরো পড়ুন:
পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট
No Comment
আপনার মন্তব্য জানান
comment url