ভাবসম্প্রসারণ: পথ পথিকের সৃষ্টি করে না , পথিকই পথের সৃষ্টি করে

পথ পথিকের সৃষ্টি করে না , পথিকই পথের সৃষ্টি করে

ভাবসম্প্রসারণ: পথ পথিকের সৃষ্টি করে না , পথিকই পথের সৃষ্টি করে

মূলভাব : পথ ও পথিকের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য । তবে পথিকই পথ সৃষ্টি করে । অর্থাৎ আদর্শের চেয়ে মানুষই বড় । কেননা মানুষই আদর্শের জন্ম দেয় ।

সম্প্রসারিত ভাব : আমাদের মাঝে প্রায়ই প্রশ্ন দেখা দেয় যে , মানুষ বড় না আদর্শ বড় । কিংবা পথ বড় , না পথিক । এমন বিতর্কে সরাসরি কোনো উত্তর পাওয়া যায় না । প্রকৃতপক্ষে পথিকই পথের জন্ম দেয় । পথিক জীবনের কর্মক্ষেত্রে যে নির্দিষ্ট পথ দিয়ে প্রতিনিয়ত একস্থান থেকে অন্যস্থানে গমন করে তখনই সৃষ্টি হয় পথের । এ পথ একদিনে সৃষ্টি হয় না । পথিকের অনবরত যাতায়াতের ফলে পায়ের আঘাতে পথের জঞ্জাল দূর হয় এবং পায়ের চাপে সবুজ ঘাস তার সজীবতা হারিয়ে ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায় , এতে একটি সুগম পথের সৃষ্টি হয় । মানুষই তার প্রয়োজনে পথ সৃষ্টি করেছে ।

জীবনে আদর্শের প্রয়োজন রয়েছে সত্য কিন্তু মানুষ ছাড়া আদর্শেরই বা মূল্য কোথায় ? প্রকৃত বিচারে আদর্শের জন্যে মানুষ নয় , মানুষের জন্যেই আদর্শ । আর আদর্শ বলতে যা বোঝায় তা তো মানুষই আপন চরিত্র মাহাত্ম্য এবং কীর্তিগাথার মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছে । মানুষ ভাগ্যচালিত নয় , সে নিজেই ভাগ্যের রচয়িতা । ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে মানুষ কর্ম - সাধনার মাধ্যমে সকল প্রকার অগ্রগতি সাধন করে । সৌভাগ্য বলে দুনিয়াতে কিছু নেই । সফলতা পেতে হলে মানুষকে প্রচুর পরিশ্রম ও সাধনা করতে হয় । পৃথিবীতে যেসব মহাপুরুষ ছিলেন তাদের সফলতা অর্জন করতে অবর্ণনীয় দুঃখ - কষ্ট ও ত্যাগ - তিতিক্ষা স্বীকার করতে হয়েছে । আর তাদের আদর্শের পথ ধরেই মানুষ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে । তাই মানুষকে জীবনে সুখ - স্বাছন্দ্য ও সাফল্য লাভ করতে হলে একাগ্রচিত্তে সাধনা ও চেষ্টা দ্বারা সকল বাধা - বিপত্তি অতিক্রম করে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে । কাজেই বলা যায় , মানুষ ভাগ্যের ক্রীড়নক নয় ; সে নিজেই ভাগ্যের স্রষ্টা ।

মন্তব্য : নতুন পথের সন্ধান করে পথ তৈরি করা আবশ্যক । তবেই জীবন ধন্য হবে , সার্থক হবে এবং জীবনে সফলতা আসবে ।

ভিডিও দেখুন



আরো পড়ুন:
পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট
No Comment
আপনার মন্তব্য জানান
comment url