স্পষ্টভাষী শত্রু নির্বাক মিত্র অপেক্ষা ভালো | ভাব-সম্প্রসারণ

স্পষ্টভাষী শত্রু নির্বাক মিত্র অপেক্ষা ভালো

স্পষ্টভাষী শত্রু নির্বাক মিত্র অপেক্ষা ভালো | ভাব-সম্প্রসারণ

মূলভাব : মানবজীবনে বন্ধুর সাহচর্য একান্ত প্রয়োজন । তবে স্পষ্টভাষী শত্রুর ভূমিকা জীবনের জন্যে কল্যাণকর হলেও নির্বাক বন্ধু জীবনের কোনো উপকারে আসে না ।

সম্প্রসারিত ভাব : শত্রুহীন মানুষ সমাজে খুঁজে পাওয়া যাবে না । সবার বন্ধু যেমন নিত্য সুখ - দুঃখের সঙ্গী , তেমনি শত্রুও থাকে কাছাকাছিই । যদিও শত্রু থেকে নিরাপদ দূরত্ব রক্ষা করার চেষ্টা সবাই করে থাকে । মানবজীবন সুখকর করে তুলতে শত্রুর সান্নিধ্য একদিকে যেমন পরিহার করতে হয় , তেমনি বন্ধুর সাহচর্য পরম প্রত্যাশিত । কিন্তু সব বন্ধই মানুষের জীবনে সুখকর ভূমিকা রাখে না ।

স্পষ্টভাষী শত্রু তার আপন মূর্তিতে আত্মপ্রকাশ করে বলে তার সম্বন্ধে সজাগ থেকে প্রতিকারের ব্যবস্থা নেয়া যায় । এ ধরনের শত্রুর শত্রুতায় কোনো কপটতা থাকে না এবং একে সহজে চেনা যায় । স্পষ্টভাষী শত্রু আমাদের সমালোচনা করে , ভুল ধরিয়ে দিয়ে এবং ভয় দেখিয়ে বরং আমাদের কল্যাণই করে । এরা আমাদের দোষ - ত্রুটি তুলে ধরে বলে আমরা সচেতন হয়ে উঠতে পারি এবং আমরা আমাদের চরিত্রকে সংশোধন করে নিতে পারি । অন্যদিকে বন্ধু যদি নির্বাক হয় তাহলে সে বিপদে কোনো রকম উপকারে না এসে অনেক সময় নিজেই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায় । যে ব্যক্তি স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতে জানে না , প্রাণখুলে নিজের অভিব্যক্তি বর্ণনা করতে জানে না , সে দুর্বিপাকের সময় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে । এ ধরনের বন্ধুর কাছ থেকে সাহায্য ও সহানুভূতি না পেয়ে অনেকেই বেদনাহত হয় ।

এ ধরনের বাক - কৃপণ মানুষ আসলে স্বার্থপর , কুটিল প্রকৃতির ও হিংসুটে । এরা এক ধরনের বর্ণচোরা। মুখের কথা কম থাকায় এদের হৃদয়ের প্রকাশও সহজে ঘটে না । তাই বর্ণচোরা নির্বাক মানুষদের প্রকৃত রূপটি না জেনেই অনেকে সাহচর্য লাভ করে । এর ফলাফল হয় মারাত্মক । এ ধরনের নির্বাক বন্ধু থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো ।

মন্তব্য : স্পষ্টবাদী ব্যক্তি সবসময়ই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ও প্রতিবাদী । সে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না । এমন ব্যক্তি শত্রু হলেও নির্বাক বন্ধু অপেক্ষা ভালো ।

ভিডিও দেখুন



আরো পড়ুন:
পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট
No Comment
আপনার মন্তব্য জানান
comment url