পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি | ভাব-সম্প্রসারণ

পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি

পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি | ভাব-সম্প্রসারণ

মূলভাব : পরিশ্রম ছাড়া জীবনে উন্নতি লাভ করা যায় না । কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে মানুষকে এই প্রতিযোগিতামূলক পৃথিবীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে হয় । পরিশ্রম ছাড়া জীবনে সৌভাগ্য আসে না ।

সম্প্রসারিত ভাব : কর্মক্ষেত্রে কর্মের প্রকৃতি , শিক্ষা ও যোগ্যতার তারতম্যের জন্য শ্রমের শ্রেণিভেদ ঘটলেও এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অভিন্ন । বস্তুত জীবনের মূল লক্ষ্যই হলো সাফল্য অর্জন । আর এ সাফল্য আসে পরিশ্রমের মাধ্যমেই । এজন্য কর্মক্ষেত্রে সুষ্ঠু দায়িত্ব পালনের মধ্যদিয়ে শ্রমের যথার্থ মর্যাদা দান করা প্রত্যেকের আবশ্যিক কর্তব্য । বস্তুত পরিশ্রম ছাড়া অর্থ , সম্পদ , জ্ঞান , বিদ্যা - বুদ্ধি কিংবা স্বাস্থ্য কোনোটাই লাভ করা যায় না । পৃথিবীতে যারা সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছেছেন তাঁদের সকলের সাফল্যের মূলে রয়েছে নিরলস পরিশ্রম । রাজনীতিকের জনকল্যাণ , বিজ্ঞানীর আবিষ্কার , ব্যবসায়ীর অর্থোপার্জন সবকিছুর মূলে আছে পরিশ্রম । ছাত্রজীবনে উত্তম ফলাফল লাভ সকলেরই কাম্য । কিন্তু কঠোর সাধনা ও নিরত্তর অধ্যবসায় ছাড়া কোনো ছাত্র কাঙ্ক্ষিত ফললাভ করতে পারে না । দেখা যায় , অতি সাধারণ মানের একজন ছাত্রও শুধুমাত্র কঠোর অধ্যবসায়ের দ্বারা আকর্ষণীয় ফলাফল লাভ করতে সক্ষম হয় । তেমনি অনেক মেধাবী ছাত্রও শ্রমবিমুখতার কারণে পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফললাভ করতে ব্যর্থ হয় , প্রতিভার অপমৃত্যু ঘটে । প্রকৃতপক্ষে , ব্যক্তি ও সামাজিক সকল ক্ষেত্রে উন্নতি লাভের জন্য পরিশ্রমের একান্ত প্রয়োজন । পরিশ্রমের ফলে আত্মমর্যাদার হানি হয় না বরং তা বৃদ্ধি পায় । সুষ্ঠু ও নিয়মিত পরিশ্রম মানুষকে নানাবিধ কু - প্রভাব থেকে রক্ষা করে । নিরলস শ্রম - সাধনায় সাফল্য অর্জনের ফলেই জীবজগতে মানুষ আজ শ্রেষ্ঠত্ব লাভে ধন্য হয়েছে এবং স্রষ্টার শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে ।

মন্তব্য : পরিশ্রম বিহীন কখনোই সৌভাগ্যের ছোঁয়া লাভ করা সম্ভব নয় ।

ভিডিও দেখুন



আরো পড়ুন:
পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট
1 Comments
আপনার মন্তব্য জানান
comment url