অপসংস্কৃতি ও বর্তমান যুবসমাজ অনুচ্ছেদ

অপসংস্কৃতি ও বর্তমান যুবসমাজ

অপসংস্কৃতি ও বর্তমান যুবসমাজ অনুচ্ছেদ

জীবনের সাথে সংস্কৃতির সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। সমাজে বসবাসরত মানুষের প্রত্যেকটি কার্যকলাপ তাদের সংস্কৃতির অন্যতম উপাদান। মূলত সংস্কৃতি এবং জীবন একে অপরের পরিপূরক। আজকের তরুণরাই দেশের আগামী দিনের অমূল্য সম্পদ এবং তারাই দেশের ভবিষ্যৎ। কিন্তু অপসংস্কৃতি তাদের জীবনকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তারা দেশীয় সংস্কৃতির অনুষঙ্গকে এমন কিছু বিষয়ের সাথে আসক্ত করে ফেলেছে যা জীবনকে সুন্দর করে বিকাশের ক্ষেত্রে মোটেই সহায়ক ভুমিকা পালন করে না।

যুবসমাজের একটা বড় অংশ সুকৌশলে হয়েছে আদর্শ পথভ্রষ্ট। সুন্দর জীবনের পথ থেকে চলে যাচ্ছে অন্ধকার জীবনের পথে। তারা তলিয়ে যাচ্ছে অন্ধকার জগতে, অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে মাদকের নেশায়। বিপুল সংখ্যক তরুণ হাতে তুলে নিচ্ছে অস্ত্র, জড়িয়ে পড়ছে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে। তারা লিপ্ত হচ্ছে অসামাজিক কাজে। হিংস্র-অশ্লীল চলচ্চিত্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পরিপন্থী কুরুচি পূর্ণ নাচ-গান, রুচিগর্হিত পোশাক-পরিচ্ছদের প্রতি তারা আকৃষ্ট হচ্ছে।

পোশাক-পরিচ্ছদে আমাদের নিজস্ব একটি ঐতিহ্য আছে। বিদেশি সংস্কৃতির ব্যাপক প্রচার ও চর্চা আমাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক-পরিচ্ছদে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। জিন্স, টি-শার্ট, স্কার্ট এখন যুব সমাজের খুবই প্রিয়। শাড়ি-লুঙ্গি কিংবা পাজামা-পাঞ্জাবি এখন আর তাদের কাছে তেমন গুরুত্ব পায় না। পশ্চিমা সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণের ফলে যুবসমাজ একদিকে যেমন আধুনিক জীবনের ধারাকে ধরতে পারে না তেমনি দেশীয় সংস্কৃতির সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারে না। ফলে তারা লক্ষ্যহীন হয়ে পড়ে। আমাদের যুব সমাজে পশ্চিমা সংস্কৃতির ভোগবাদ, পোশাক-পরিচ্ছদ, অশ্লীলতা আর বেহায়াপনার মহোৎসব শুরু হয়েছে। যে কারণে বাড়ছে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, বিবাহ-বিচ্ছেদ, অনৈতিক জীবনযাপনের অন্ধকারময় বিকৃত অনাচার।

জাতীয় সংস্কৃতির এমন চরম পর্যায়ে যুবসমাজের সিংহভাগ যখন এক অনিশ্চিত গন্তব্যহীন জীবনের পথ বেছে নিচ্ছে, তখন এই যুবসমাজেরই উচিত বিচারবুদ্ধি দ্বারা শত বাধা মোকাবিলা করে সামাজিক দায়বদ্ধতার শিক্ষাকে নিজেদের মাঝে সুচারু রূপে বপন করা। যুব সমাজকে রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। একদিনে এই অপসংস্কৃতির বিষ আমাদের সমাজে ঢুকে পড়েনি,ধীরে ধীরে সমাজে প্রবেশ করেছে। তেমনি অপসংস্কৃতির এই বিষ থেকে আমাদের যুব সমাজেকে একদিনে মুক্ত করা সম্ভব নয়।

এই বিষের প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সমাজের স্তরে স্তরে যে অসততা ও অপসংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়েছে তা রোধ করতে হবে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষিত সমাজকে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে। সমাজের সর্বস্তরে বাঙালির সার্বজনীন সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে। সর্বোপরি তরুণ তরুণীদের সচেতন করতে হবে।

ভিডিও দেখুন


আরো পড়ুন:

পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট
No Comment
আপনার মন্তব্য জানান
comment url