জাতি গঠনে নারী সমাজের ভূমিকা রচনা

জাতিগঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

জাতি গঠনে নারী সমাজের ভূমিকা রচনা

ভূমিকা :

কবি নজরুল নারীকে লক্ষ্য করে বলেন-

বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর ।
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী , অর্ধেক তার নর ।
এ বিশ্বে যত ফুটিয়াছে ফুল , ফলিয়াছে যত ফল ।
নারী দিল তাহে রূপ - রস - মধু গন্ধ সুনির্মল ।
জ্ঞানের লক্ষ্মী , গানের লক্ষ্মী , শস্য লক্ষ্মী নারী ,
সুষমা - লক্ষ্মী - নারীই ফিরিছে রূপে রূপে সঞ্চারী ।

অর্থাৎ কবি পরম শ্রদ্ধায় নারীজাতির অবদানের কথা স্বীকার করেছেন । কারণ দেশ ও জাতির সামগ্রিক উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য মূলত নর ও নারী উভয়ই সমভাবে দায়ী । ইসলামের সেই প্রাথমিক যুগেও আরবে পুরুষের শিক্ষা - দীক্ষার সঙ্গে নারী শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব আরােপ করা হতাে । হাদিসেও তাদের লেখাপড়ার কথা তথা জাতিগঠনের কথার উল্লেখ আছে । পুরুষ মনে করে যে , সংসার পরিচালনার জন্য তাদের নিজেদের কর্মতৎপরতা অপরিহার্য এবং অফিস - আদালত , শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রেও তাই । আসলে এ ধারণা ভুল কারণ মেয়েরাও সংসারের কাজে এবং সংসারের বাইরের কাজে সমান দক্ষতায় কর্মকান্ড সম্পাদন করতে সমর্থ ।

পুরুষের পাশাপাশি নারীর ভূমিকা :

পুরুষের পাশাপাশি নারীর ভূমিকাও নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ । এক কথায় বলা যায় , জাতি তথা রাষ্ট্রের সঙ্গীন কল্যাণ নির্ভর করে নর - নারী সামগ্রিক কর্মতৎপরতার ওপর । রাষ্ট্রের কর্মসম্পাদনের জন্য পুরুষের প্রয়ােজন যেমন অপরিহার্য তেমিন নারীর প্রয়ােজনও অপরিহার্য । নারীকে বাদ দিয়ে সংসার এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করা বাতুলতা মাত্র । আমরা যদি এই মূল্যবান কথাটি ভুলে যাই যে , দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী এবং দেশের গণনির্বাচনের সময় পুরুষের পাশাপাশি নারীরও সমান ভােটাধিকার আছে । তাহলে বাস্তব সত্যকেই অস্বীকার করা হবে । প্রকৃতপক্ষে জাতির উন্নতির প্রয়ােজনে , দেশের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল বিধানের লক্ষ্যে নারী জাতির শিক্ষা দীক্ষার প্রতি মনােযােগী হওয়া দরকার ।

প্রাচীন যুগে নারীর ভূমিকা :

প্রাচীনকালের ভারতবর্ষের খবর ইতিহাসে সুস্পষ্ট নয় । কিন্তু মধ্যযুগের কথা তাে আমাদের অবিদিত নয় । মধ্যযুগে নারীকে অন্তঃপুরবন্দিনী করে রাখা হত । সে যুগে পুরুষশাসিত সমাজ মেয়েদের চারদেয়ালের মধ্যে বন্দী করে রাখতাে । মহিলাদের জ্ঞান চর্চার কোন সুযােগই সৃষ্টি করা হত না । মহিলাদের লেখাপড়ার সুযােগ থাকলে তার অন্তঃপুরের বাইরে এসে পড়বে এ ভয় পুরুষ শাসিত সমাজের বরাবরই ছিল । কিন্তু সে দিনকাল পাল্টেছে । কবি বলেন-

সে যুগে পুরুষ দাস ছিল না ক ' নারীরা আছিল দাসী ।
নর যদি রাখে নারীরে বন্দী , তবে এর পর যুগে ,
আপনারি রচা ঐ কারাগারে পুরুষ মরিবে ভুগে ।
যুগের ধর্ম এই-
পীড়ন করিলে সে পীড়ন এসে পীড়া দেবে তােমাকেই ।

অতএব এ যুগে পুরুষের পাশাপাশি নারীকেও ঘরে বাইরে সমদায়িত্বে কর্ম সম্প্রদানে নিয়ােজিত হতে হবে । একটা কথা প্রচলিত আছে যে , স্ত্রী স্বামীর অর্ধাঙ্গিনী অর্থাৎ জীবনের সর্বক্ষেত্রে নারী পুরুষের সঙ্গে ঘরে - বাইরে সব কাজের দায়িত্ব ভাগ বণ্টন করে নেবে তবে মেয়েরা ঘরের বাইরে কর্মসম্পাদন করার সময় সর্বক্ষেত্রে নিজেদের মান - মর্যাদা সম্ভ্রম বজায় রাখবে । মহানবী হযরত মুহম্মদ ( সাঃ ) স্বয়ং সামাজিক কর্তব্য সম্পাদনে হযরত খাদিজাতুল কোবরা ( রাঃ ) এবং হযরত আয়শা ( রাঃ ) কে নিয়ােজিত করেছিলেন । জাতি গঠনে মেয়েদেরও যে ভূমিকা থাকা দরকার রাসূলুল্লাহ ( সাঃ ) নিজের পত্নীদের ওপর কাজের দায়িত্ব অর্পণ কৱে সেকালের আরব মুসলমান ও সাহাবাদের কাছে সে কথা সুপ্রতিষ্ঠিত করেন । বর্তমান যুগে বিশ্বের বহু দেশের বহু নারী সমাজ গঠনে তাদের গৌরবময় অবদান রেখে নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্যবােধের উজ্জ্বল উদাহরণ স্থাপন করেছেন । এক্ষেত্রে মাদার তেরেসার নাম বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য ।

বিদেশে নারীর ভূমিকা :

ইউরােপ , মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র , অস্ট্রেলিয়া , এমনকি এশিয়া মহাদেশেরও বহু রাষ্ট্রে নারী সমাজের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হয়েছে । বিশ্বের নানা দেশ নানা ক্ষেত্রে জীবনের কর্মমুখরতায় চঞ্চল । সুতরাং অন্তঃপুরে বসে থাকার উপায় কোথায় ? তবে নারী যেহেতু শিশুর জননী এবং তার লালন - পালন , শিক্ষা - দীক্ষা এবং চরিত্র গঠনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা , তাই বহু মহিলাকেই ঘরে সংসারে থেকেও জাতিগঠনের মতাে দায়িত্বশীল কর্মে ব্যাপৃত থাকতে হয় ।

শিশুর চরিত্র গঠনে নারীর ভূমিকা :

আজকের শিশু আগামী কালের নাগরিক কাজেই এই শিশুর চরিত্র গঠনের প্রশ্নে সে মায়ের কাছে যে শিক্ষা পায় তাই তার ভবিষ্যৎ জীবন গঠনের নিয়ামক । বলাবাহুল্য , ঘরের পরিবেশ , সংসারের পরিবেশ থেকে এভাবে নারীজাতি গঠনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । আসলে সাংসারিক পরিবেশ থেকেই মেয়ের জাতি গঠনমূলক এ ভূমিকার সূত্রপাত করে । কেবল সন্তানের দিকে লক্ষ্য রাখলেই চলে না ।

পরিবারের প্রতি নারীর কর্তব্য :

স্ত্রীকে সর্বদা পারিবারিক শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতিও খেয়াল রাখতে হবে , কারণ দাম্পত্য জীবনের সুখ - শান্তি স্বামীকে নানা কাজের সহযােগিতা দানের ওপর নির্ভরশীল । স্বামীর জীবনকে কর্মতৎপর করে তােলার জন্য নারীকে অনেক সময় আত্মত্যাগও করতে হয় এবং স্বামীর জীবনের উন্নতি ও সমৃদ্ধির দিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে ।

উপসংহার :

পারিবারিক যে জীবন সে জীবনের শান্তি রক্ষার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নারীরা জাতিগঠনে নিজেদের ভূমিকা পালন করতে পারে । বিশ্বের সর্বত্র আজ নারী সমাজ ঘরে - বাইরে দেশ গড়ার কাজে নিজেদের গৌরবময় ভূমকা রেখে চলেছেন । আমাদের দেশও এক্ষেত্রে বড় একটা পিছিয়ে নেই ।

ভিডিও দেখুন

পোস্ট ট্যাগ-

জাতিগঠনে নারীসমাজের ভূমিকা, জাতি গঠনে নারী সমাজের ভূমিকা রচনা, জাতি গঠনে নারী সমাজের ভূমিকা ছোট রচনা, জাতি গঠনে নারী সমাজের ভূমিকা প্রবন্ধ রচনা, জাতি গঠনে নারী সমাজের ভূমিকা প্রতিবেদন, দেশ গঠনে নারী সমাজের ভূমিকা ২০ পয়েন্ট, জাতি গঠনে নারী সমাজের ভূমিকা রচনা for hsc, জাতি গঠনে নারী শিক্ষার গুরুত্ব রচনা, জাতি গঠনে নারী সমাজের ভূমিকা শীর্ষক প্রতিবেদন, জাতি গঠনে ছাত্র সমাজের ভূমিকা রচনা, বাংলাদেশের উন্নয়নে নারীর ভূমিকা রচনা, আদর্শ সমাজ গঠনে নারীর ভূমিকা রচনা, নারী শিক্ষা রচনা ২০ পয়েন্ট, সমাজে নারীর ভূমিকা, স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী সমাজের ভূমিকা রচনা, সমাজ উন্নয়নে নারীর ভূমিকা, ইসলামী সমাজ গঠনে নারীর ভূমিকা, নারী শিক্ষার গুরুত্ব প্রবন্ধ রচনা, একবিংশ শতাব্দীর নারী সমাজ রচনা।


পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট
No Comment
আপনার মন্তব্য জানান
comment url